কে তুমি


কে তুমি

 

 

                   "কে তুমি "

 

...,পিছনে তাকাতেই চোখ পড়লো এক অদ্ভুত দৃশ্য,হাতে তাহার রিমঝিম চুড়ি,ভিতরের কামরায় নিরবতার মাঝে সে কি হাসির ঢল,আমি থমকে দাঁড়ালাম কিছু বলিবার ভাষা আমার নাই যেন এতকাল অপেক্ষার প্রহর পেরিয়ে,আজ বুঝি কোন এক অচেনা সুর এ-র সাথে দেখা হবে।


 

রসিক বলিলো আচ্ছা নীললোহতি সে যদি অচেনা সুর না হয় তুই কি করিবি?নিঃসংকোচে আমি বলিলাম...,


 

★★রিমঝিম বর্ষা ঝড়ছে সে কখন হতে।হালকা হিমেল হাওয়া বইছে,জানালার কপাট টি খুলতেই,এক ঝটকা শিশির চোখে এসে পড়লো, এমতো সময় এক অদ্ভুত সুর কানে বাজতে লাগলো। ঠিক যেমন রিম ঝিম চুড়ির টুংটাং শব্দের মতো।

 

সেই সুর খুজতেই মাথা একটু বাহিরের দিকে বের করে,এদিক ওদিক তাকালাম কিন্তু কিছুই চোখে পড়লো না।তখন ও আমার কর্নে সেই অচেনা চির রহস্যময়ী সুর বাজতে ছিলো। তাই সময় নষ্ট না করিয়া সেই সুর খুঁজিতেই বেরিয়ে পরার জন্য বন্দোবস্ত করিতেছিলাম,এমতো সময় কে যেন আমায় পিছন হতে ডাক দিলো।


 

কি হে নীললোহতি এ-ই পড়লা বর্ষাময় সকালে কোথাও যাচ্ছিস নাকি?আমি কিছু বলিলাম না। চুপ রহিলাম, কারন তখন ও আমি পরিপাটি হচ্ছিলাম,পরিস্থিতি অনুধাবন করিয়া তাহার অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা করিতেছিলাম।


 

কি হে নীললোহতি তুই রবীন্দ্রনাথের কথা ভুলিয়া গেলি?আহা, তিনি কত সুন্দর করিয়াই না কবিতা লিখিয়াছেন।পাঠকগন আপনারা হয়তো ভাবছেন আমি তাকে কিছু বলছি না কেন?যখন আমি তাকে কিছু বলবো আমার আবার রক্ষে নেই,বুঝলেন না তো ঐ যে গ্রাম বাংলায় একটা প্রবাদ আছে না সুখে থাকলে ভূতে কিলাই ঐ রকম আরকি...,


 

তাহলে শুনো নীললোহতি,

"নীল নবঘনে আষাঢ় গগনে 

তিল ঠাঁই আর নাহিরে

ওগো আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে"


 

আমি তাহার কন্ঠে মুগ্ধ হইয়া বলিলাম এবার আমি যাই রে।

এতক্ষণ যে কবিত্বের ভাষায় কথা বলিল সে আর কেউ নেয়,সে আমার বন্ধু রসিক।ভাবছেন ঠাট্টা করছি কিন্তু না তার নাম রসিক,রস দিয়ে কথা বলা যার অভ্যেস।মাঝে মাঝে টুকটাক লেখালিখি করে বেশ কয়েকবার জাতীয় পুরষ্কার ও পেয়েছে। 


 

একদিন বিকেলে হঠাৎ বলিয়া উঠিল বুঝলি নীললোহতি,এবার পড়াশোনাটা রাখিয়া একটু সাহিত্য চর্চা কর,আর তাছাড়া ক'টা দিন পর ডাক্তার হয়ে বের হলে,তখন আরও সময় পাবি না।

আমি তাহার কথা শুনিয়া হাসিয়া উঠিলাম,আমাকে দিয়ে হবে না রে বরং তুই কর,এ-ই যে তুই এতো ভালো লেখক আমি সবার কাছে বলতে পারি সেটাই বা কমে কিসের রে।


 

রসিক গর্জে উঠে বলল তুই সাহিত্য চর্চা না করলে বেশ। রবীন্দ্র চর্চা কর?

না, রে। 

কেন?

এসব লিখালিখি আমাকে দিয়ে হবে না এসব হতে হলে...,


 

তারপর সে রাতে কি হয়েছিল আমি বলতে পারব না।তার পর দিন যখন জ্ঞান ফিরল দেখি আমার বন্ধুরা আমার সামনে সাদা এপ্রোন পড়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর রসিক আমার হাত ধরে বসে আছে,আর বলতেছে আমি বড় ভুল করিয়াছি,আমাকে ক্ষমা করিয়া দে। 


 

আমি শুধু মুচকি হেসেছিলাম,আজও রসিক আমার সাথেই আছে। আমিও আছি,আসলে বাস্তবতা এরকমই,জোর করে কিছু হয় না।আজ যে শিশু টার দৈনিক আট-দশ ঘন্টা ঘুমানোর দরকার,ঠিক সেই শিশুটা কে ঘুমানো অবস্থাও পড়তে হয়।

"তাহাকে পড়া গুলো গুলিয়ে গুলিয়ে খাওয়ানো হয়,আর 

তাহা পরীক্ষার হলে গিয়ে আগ্নেয়গিরির  অগ্নুৎপাতের মতো উদগিরন করতে হয়।"থাক ওসব কথা...,


 

তখন রসিক বলিয়া উঠিল আমি আসতেছিরে।

বৃষ্টি তখনো থামেনি টিপটিপ করে ঝড়ছিল...,


 

****আচ্ছা নীললোহতি তুই যাচ্ছিস কথায় রে?

ততক্ষণে আমরা দুজন বেরিয়ে পরেছি।


 

আমি বললাম, এক অদ্ভুত সুন্দর মনোময়ী অচেনা রহস্যময়ী সুর কে খুঁজিতে। 

রসিক বলল,তুই আমার সাথে ঠাট্টা করচ্ছিস বুঝি?আমি মুচকি হাসিয়া বলিলাম নারে।

রসিক দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলিয়া বলিল মাঝে মাঝে তুই যে কি বলিস,আমার কাব্যের ভাষায় তাহা অনুধাবন করিতে পারি না।

আমি বললাম,তোকে আর পারতে হবে না তুই বরং লেখালিখি কর।

 

আকা বাঁকা মেঠোপথ,গাছের সারি,সবুজ আধার দিগন্তের কিনারে,কালো মেঘে ছেয়ে গেছে।মাঝে মাঝে এক দুটো পাখি বৃষ্টিতে ভিজিয়া উরিয়া যাচ্ছে, আশ্রয় নিচ্ছে গাছগাছালির ঝুপের আড়ালে, দূর থেকে ঝাপসা দেখা যায় যায়।এখন কেবল স্পষ্টতর হইয়া উঠিয়াছে।খুব মনুরন্জন লাগছিল বর্ষা ভেজা রিমলা রেলস্টেশন দেখতে।বৃষ্টি ভেজা রেলস্টেশন দেখতে এতো সুন্দর লাগে তা পূর্বে জানা ছিল না।


 

মন চাইছে নিরবে দারিয়ে এক দু'টো কাব্যের লাইন লিখি,কিন্তু বর্ষার কারনে লিখলাম না,যদি ডাইরিটা ভিজে যায়,এ কথা শুধু মন কে শান্তনা দেওয়ার জন্য আর কিছুই নয় কারন এক লাইন লিখলে পরের লাইন যে কি লিখবো তা আমি ভুলিয়াই যাই,তবু্ও হাতে একটা ডায়েরি রাখি যদি কখনো কবিতা লিখতে পারি!!

এসব কথা ভাবতে ভাবতে ট্রেনের দু'টো টিকেট কাটিলাম গন্তব্য মহুমায়া পাহাড়ে....,


 

...,পিছনে তাকাতেই চোখ পড়লো এক অদ্ভুত দৃশ্য,হাতে তাহার রিমঝিম চুড়ি,ভিতরের কামরায় নিরবতার মাঝে সে কি হাসির ঢল,আমি থমকে দাঁড়ালাম কিছু বলিবার ভাষা আমার নাই যেন এতকাল অপেক্ষার প্রহর পেরিয়ে,আজ বুঝি কোন এক অচেনা সুর এ-র সাথে দেখা হবে।


 

রসিক বলিলো আচ্ছা নীললোহতি সে যদি অচেনা সুর না হয় তুই কি করিবি?নিঃসংকোচে আমি বলিলাম...,


 

ইনশাআল্লাহ চলবে...,


Anik
সিকন
Easin Arfat Moin
তারা এই গল্পটি পছন্দ করেছেন ।

২টি মন্তব্য

সিকন

সিকন

এক বছর আগে

পরের পর্ব কবে দিবেন ভাই

Easin Arfat Moin

Easin Arfat Moin

এক বছর আগে

আলহামদুলিল্লাহ,আপনাকে ধন্যবাদ ভাই। ইনশাআল্লাহ,পরের পর্ব অতি শীঘ্রই দিয়ে দিবো।


মন্তব্য লেখার জন্য আপনাকে অবশ্যই লগ ইন করতে হবে


আপনার জন্য

তুমি অনন্যা

তুমি অনন্যা

তুমি অনন্যা লেখক:ইসরাত ই...

অদ্ভুত-উদ্ভট

অদ্ভুত-উদ্ভট

এ কোথায় এলাম আমি?হঠাৎ দে...

প্রিয় জয়ন্ত স্যার

প্রিয় জয়ন্ত স্যার

তখন সবে হাইস্কুলে উঠেছি।...

কবরস্থানের মাঠে একরাত

কবরস্থানের মাঠে একরাত

কবরস্থানের মাঠে একরাত লে...

ভয়

ভয়

ছোট বেলার থেকেই আমি ছিলা...

আসক্ত

আসক্ত

১. আমি ভিডিওগেম আসক্ত। এ...

~পিল্টু

~পিল্টু

রেলস্টেশনটার পিছনের দিকে...

সব পেশাই কি সমান???

সব পেশাই কি সমান???

সবাই বলে সব পেশাই সমান!স...

নীল দ্বীপ (পর্ব৩)

নীল দ্বীপ (পর্ব৩)

নীল দ্বীপ পর্ব ৩ মৃন্ময় ...

শেষ

শেষ

      ফোন রিং হওয়ার শব্দ...

আবার ফিরে দেখা

আবার ফিরে দেখা

   “ ঈপ্সিতা” ডাকটা শুনে...

দার্শনিক ফল্টুদা

দার্শনিক ফল্টুদা

দার্শনিক ফল্টুদা —ফল্টুদ...

কে তুমি

কে তুমি

                     "কে...

মিষ্টি ভালোবাসা

মিষ্টি ভালোবাসা

বউটা আজকে আমার উপর অনেক ...

আমরা তো সবাই মানুষ!!!!

আমরা তো সবাই মানুষ!!!!

তখন আমি ক্লাস 5 এ পড়ি, স...

তুমি অন্যনা (শেষ পর্ব)

তুমি অন্যনা (শেষ পর্ব)

রনি সেখানে যেয়ে ইসরাতকে ...

ধাপ্পাবাজ বাপ্পা অথবা ধাপ্পাদা

ধাপ্পাবাজ বাপ্পা অথবা ধাপ্পাদা

—বাপ্পাদার নাম যেভাবে ধা...

অর্পন

অর্পন

ভোরের সূর্য উঠার ঠিক আগ ...

কে তুমি  (শেষ পর্ব )

কে তুমি (শেষ পর্ব )

                   কে তু...

শিকার

শিকার

রাত ১ঃ৩০টা।অমাবস্যার রাত...