প্রিয় মা


প্রিয় মা

 



 

প্রিয় মা,

কেমন আছো তুমি?ভালো আছো তো?

তুমি সবসময় হাসি-খুশি থাকবে কিন্তু। সবসময় ভালো থাকবে,ঠিক আছে?

আর আমার আর বাবার কথা তুমি চিন্তা করো না,আমরা ঠিকই আছি।

কিন্তু মা,আমার তোমাকে ছাড়া খুব একা একা লাগে। কিছু ভালো লাগে না।খুব কাঁদতে ইচ্ছে করে তোমার জন্য।তোমার কথা খুব মনে পড়ে।  তোমার কথা মনে পড়লে,আমার বুকের ভেতরটা জানি কেমন করে উঠে।

মা,আগে আমি যদি না খেতে চাইতাম,তুমি আমাকে তোলে খাইয়ে দিতে।মা,আমার খেতে  মন চায় না,মন চায় তোমার হাতে খেতে—কিন্তু তুমি তো নেই, কে খাইয়ে দিবে আমাকে?

মা,আমার পড়তেও মন চায় না,আগে তো তুমি আমাকে পড়াতে, এখন তোমার মতো সুন্দর করে কেউ আমাকে পড়াতেই পারে না।

মা, রাতে আমার ঘুম আসে না। তুমি তো আমাকে, তোমার কোলে আমার মাথা রেখে গান শুনিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিতে।এখন আমাকে কে ঘুম পাড়িয়ে দিবে?

মা,আমার তোমাকে ছাড়া সত্যিই ভালো লাগে না। তুমি কেন একা চলে গেলে?আমাকে নিয়ে গেলে না কেন তোমার সাথে?

মা,আমি তো তোমার সোনা ছেলে।তুমি তোমার সোনা ছেলেকে কেন ফেলে চলে গেলে?

মা,আমি তো সবসময় তোমার কথা শুনতাম,কিন্তু আমি কি কোনো ভুল করেছিলাম যে,তুমি আমাকে ছেড়ে চলে গেলে?

মা,তুমি আমায় বলেছিলে,তুমি সবসময় আমার সাথে থাকবে।আমি জানি না,এখনও তুমি আমার সাথে আছো কি না।তাও আমি এই চিঠিটা তোমাকে লিখলাম।তুমি যদি এই চিঠিটা পড়ে থাকো,তাহলে যখন তুমি অবসর থাকবে আমাকে এর উত্তর দিও মা।


 

তুমি আমার বেস্ট মা।পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো মা।আমি সবসময় তোমার ছেলেই হবো।

আর মা,বাবাও কিন্তু তোমাকে খুব মিস করে। তুমি কিন্তু বাবাকেও একটা চিঠি লিখো।


 

মা,তুমি ভগবানকে জিজ্ঞেস করো তো,কেন ভগবান তোমাকে ওই রোগটা দিয়ে আমাদের কাছ থেকে দূরে নিয়ে চলে গেল?আমরা কি কোনো দোষ করেছিলাম?

এর উত্তরটাও যদি তুমি আমাকে চিঠি লিখো, তাহলে চিঠিতে লিখে দিও।

আমার প্রণাম নিও।

আর মা একটা কথা আমি তোমাকে কখনো বলতে পারি নি।সে কথাটা হলো—আই লাভ ইউ মা।

ভালো থেকো মা।বাই...বাই..


 

ইতি

তোমার সোনা ছেলে



 

চিঠিটা আমি মাকে লিখলাম। মার কথা আমার খুব মনে পড়ে। খুব  কাঁদতে ইচ্ছে করে। 

সবই তো ঠিক ছিল।মা,বাবা আর আমি সবাই কত খুশি ছিলাম। হঠাৎ করে মার একটা রোগ ধরা পড়লো—আর কিছু দিনের মধ্যেই মা আমাকে আর বাবাকে ছেড়ে চলে গেল।

আমার সবসময়ই  মার কথা মনে পড়ে।

মা আমায় বলেছিল,যে মা নাকি দূরে চলে গেলেও সবসময় আমার সাথে থাকবে। তাই আমি মাকে চিঠিটা লিখলাম। মা যদি চিঠিটা পড়ে, তাহলে আমাকে এর উত্তর নিশ্চয় দেবে।


 


Nipendra Biswas
Champa Sen Pinky
রিদা
Akash
তারা এই গল্পটি পছন্দ করেছেন ।

৩টি মন্তব্য

Nipendra Biswas

Nipendra Biswas

৩ বছর আগে

❤️❤️❤️

Champa Sen Pinky

Champa Sen Pinky

৩ বছর আগে

মায়ের জন্য কাঁদা মন,সত্যিই মাকে ছুঁয়ে যাবে।

রিদা

রিদা

৩ বছর আগে

অসাধারন


মন্তব্য লেখার জন্য আপনাকে অবশ্যই লগ ইন করতে হবে


আপনার জন্য

মাথা ব্যাথা

মাথা ব্যাথা

কপালের ডানপাশটা ব্যাথা ক...

দার্শনিক ফল্টুদা

দার্শনিক ফল্টুদা

দার্শনিক ফল্টুদা —ফল্টুদ...

সপ্ন যখন হ য ব র ল

সপ্ন যখন হ য ব র ল

আমি এখন বিয়ে বাড়িতে বাল্...

করোনা

করোনা

নাম ছিলো তার করোনা। খুব ...

কবরস্থানের মাঠে একরাত

কবরস্থানের মাঠে একরাত

কবরস্থানের মাঠে একরাত লে...

প্রতিবিম্ব

প্রতিবিম্ব

আয়নার সামনে বসে নিজেকে দ...

সব পেশাই কি সমান???

সব পেশাই কি সমান???

সবাই বলে সব পেশাই সমান!স...

নীল দ্বীপ (পর্ব২)

নীল দ্বীপ (পর্ব২)

ব্রেকফাস্ট শেষে মৃন্ময় ত...

খাঁটি পাগল

খাঁটি পাগল

বিধূবাবুর কাছে এক পাগল এ...

লায়লা

লায়লা

"তুমি ছুয়ে দিলে হায়, কিয...

শিকার

শিকার

রাত ১ঃ৩০টা।অমাবস্যার রাত...

কিছু করার নেই

কিছু করার নেই

 ১.আজকালকার দিনে চাকরি প...

পথশিশু

পথশিশু

লাবণ্য,  একজন পথশিশু। পথ...

চিঠি

চিঠি

রহস্যময়, জানি চিঠিটি আপন...

আসক্ত

আসক্ত

১. আমি ভিডিওগেম আসক্ত। এ...

আমি চঞ্চলা

আমি চঞ্চলা

      গল্প পড়ার শখ আমার ...

নীল দ্বীপ (পর্ব ৬)

নীল দ্বীপ (পর্ব ৬)

পরদিন সকালে শুভ্র আর মৃন...

আসক্তি

আসক্তি

একটা আসক্তিতে জড়িয়ে আছি!...

অমাবস্যার রাত

অমাবস্যার রাত

গল্পটা খুব আগের না এইতো ...

তুমি অনন্যা (পর্ব ৩)

তুমি অনন্যা (পর্ব ৩)

পর্ব ৩:একটু এগুনোর পর শা...