দৃষ্টিগোচর


দৃষ্টিগোচর

জীবনে অসফল এক ব্যাক্তি আমি। জীবনের অবসান যেহেতু হয়নি তাই বাক্যটা অন্য ভাবে লেখাই উত্তম। জীবনে এখনো পর্যন্ত অসফল এক ব্যাক্তি আমি। তাই সময় পেলেই স্মৃতি হাতরাই। কখনো অপরকে দোষ দেই আবার কখনোবা নিজেকে। সকল অসফল ব্যাক্তিরাই হয়তো এমন করে। কিভাবে বললাম এই কথাটা? এতো আমার জানা একটি কথা। অসফল ব্যাক্তিদের হাতে অনেক সময়। কেউ তাদের কাছে আসে না। সমাজের মাঝে এক রকম অদৃশ্য তারা। আর এই সময়ে তারা চিন্তা করে তাদের অতীতের কথা। হঠাৎ করে যদি অসফলদের দল থেকে একবার নাম কাটিয়ে সফলদের দলে জুড়ে দেওয়া যায়। তখন আর স্মৃতিচারণ করতে হয়না। আসলে তখন এর জন্যে সময়-ই থাকে না। অসফলতার সময়কার হাতে থাকা অঢেল সময় সফলতার এক রুটিনে যেনো বন্ধি হয়ে যায়। আশেপাশের মানুষ গুলোর নজরে পরতে না চাইলেও পরে যাওয়া হয়। সবাই তখন মাতামাতি করে। অদৃশ্য কৃষ্ণগহ্বর থেকে হঠাৎ-ই হয়ে উঠা হয় দ্বীপ্তিমায় নক্ষত্র।



যা-হোক আমি অসফলদের দলেই আছি এখনো। হাতে আছে অঢেল সময়। এসময়ে সফল হওয়ার চিন্তার থেকে অসফলতার চিন্তা বেশি মাথায় আসে। অদৃশ্য কৃষ্ণগহ্বর থেকে হঠাৎ-ই হয়ে উঠা হয় দ্বীপ্তিময় নক্ষত্র। যা-হোক আমি অসফলদের দলেই আছি এখনো। হাতে আছে অঢেল সময়। এসময়ে সফল হওয়ার চিন্তার থেকে অসফলতার চিন্তা বেশি মাথায় আসে।  আবার কারো কারো এর কোনোটাই হয় না। সারাদিন শুধু ভাবে অতীতের কথা। কখনো যদি হাতে একটু বেশি সময় পেয়ে যায়, তখন তার মনে পরা কিছু অতীত লিখে রাখে। লিখে রাখা অতীতে আবার নিজের মতামতও ব্যক্ত করে। যেমনটা আমি করছি এখন। হাতের কাছেই বই আছে কিন্তু পড়ছি না। আমি যে অসফল।

অসফলতার চাদর আমার গায়ে জরানো। এর গুণের অবশ্য শেষ নেই। হ্যারি পটারে যে অদৃশ্য হওয়ার চাদর ছিলো এটাও অনেকটা তেমন। যতক্ষণ গায়ে জরিয়ে রাখবো ততক্ষণ কেউ আমাকে দেখবেই না। কিছু অসফল ব্যাক্তিদের কাছে আবার এর প্রতিকারও আছে। সহজ কোনো কাজে সফলতা অর্জন করা। যা করতে বেশি শ্রম দিতে হয়না কিন্তু এতে সবার এমন দৃষ্টিগোচর হয় যেনো তার গা থেকে অসহনীয় আলো আর তাপ আসছে।


একটা ছেলে একটা মেয়েকে ভালোবাসতো। ছেলেটা পড়ালেখায় বেশ ভালো ছিলো। বোর্ড এক্সামে সে দেখলো মেয়েটা পরিক্ষায় ফেইল করবে। তাই সে ইচ্ছা করে নিজে ফেইল করার জন্যে খাতায় কিছু লিখলো না। পরবর্তীতে যখন পরিক্ষার ফল প্রকাশ হলো দেখা গেলো মেয়েটা পাশ করেছে। আর আশানুরূপ ছেলেটা করেছে ফেইল। তাদের সম্পর্ক ভালোই ছিলো কিন্তু ছেলেটার এক বছর পিছিয়ে যাওয়ার জন্যে অচিরেই সম্পর্কে ফাটল ধরে। এর এক পর্যায়ে মেয়েটা ছেলেটাকে ছেরে দেয়। ছেলেটা এটা মেনে নিতে পারলো না। তার মাথায় একটাই ধারনা ঘুরতে শুরু করলো। মেয়েটার জন্যে তার এক বছর নষ্ট। সে তার হয়নি তাকে অন্য কারোরও হতে দেওয়া যাবে না। কয়েকদিন সময় গেলো, এর মাঝে ছেলেটা একটা বড় দা বানালো। আর মাথায় দৃঢ় এক পরিকল্পনা।  মেয়েটা তার হয়নি অন্য কারোরও হবে না।। 


একদিন মেয়েটা হাতে বই নিয়ে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলো। হয়তো কলেজের দিকে। ছেলেটা তাকে দেখে এবং বাড়ি থেকে দা নিয়ে এসে এলোপাথাড়ি ভাবে কোপ দেয়। এক পর্যায়ে মেয়েটা রাস্তায় পরে গেলে ছেলেটা পালিয়ে যায়। এতে অবশ্য তাকে অনেকে সাহায্য করে। ঘটনার প্রায় ১০ বছর পর সে ধরা পরে পুলিশের হাতে এবং তার জেল হয়।।


গ্রামের অনেকেই এই ঘটনায় অনেক মন্তব্য করেন। ঘটনাটা অবশ্য ছেলে এবং তার দিককার কিছুলোক প্রচার করে।  কেউ বলেন "মেয়েটা যা করছে এতে এই পরিনতিই ঠিক"। কেউ বলেন " ইশ আর কয়দিন পলাইয়া থাকলেই জেল খাটন লাগতো না"। সে সময় মেয়ের দিকের কোনো কথা কারো মুখে শুনতে পাইনি  শুনে থাকলেও হয়তো খেয়াল নেই।তখন কি কারো দৃষ্টিগোচর হয়নি মেয়েটিকে কুপিয়ে হত্যা করা হচ্ছে? কিংবা কারো কানে কি মেয়েটির চিৎকার গিয়ে পৌঁছায়নি? মেয়ের বান্ধবীরা কি বলেছিলো মেয়েটি ছেলেটিকে ভালোবাসতো? নাকি শুধুই ছেলেটির কথায় সেদিন আমরা নেচেছিলাম। বয়সে অনেক ছোট হওয়াতে অন্যের চিন্তাই নিজের চিন্তা ছিলো তখন। তখন ছেলেটাকে খুব-একটা খারাপ মনে হয়নি। মনে হয়েছিলো প্রতিবাদী। তখন তো আর বুঝতাম না সে খুনি। সে তার মাধ্যমিক ফেলের অসফলতার অদৃশ্য হওয়ার চাদরটা খুব নিপুন ভাবেই পুঁড়িয়েছিলো। এতোটাই নিপুন যে আজও কিছু মানুষের কাছে সে নায়ক!! প্রতিবাদী নায়ক!!



মেয়ের দিকের কোনো কথা লোকের সামনে আসলে হয়তো এমন হতো না। হয়তো পালটে যেতো গল্পটা। হয়তো তখন কর্ণপাত হতো মেয়েটির শেষ আর্তনাদ। হয়তো তখন দৃষ্টিগোচর হতো মেয়েটির মৃত্যুপূর্ব ছটফট।



sekon
তিনি এই গল্পটি পছন্দ করেছেন ।

৩টি মন্তব্য

sekon

sekon

৪ বছর আগে

প্রতিবাদই যখন করল তাহলে ভালোবাসার কি অস্তিত্ব রইলো!🤔

Anik

Anik

৪ বছর আগে

@sekon ধন্যবাদ... সাথে থাকার জন্য।

sekon

sekon

৪ বছর আগে

@anik স্বাগতম


মন্তব্য লেখার জন্য আপনাকে অবশ্যই লগ ইন করতে হবে


আপনার জন্য

অর্পন

অর্পন

ভোরের সূর্য উঠার ঠিক আগ ...

দৃষ্টিগোচর

দৃষ্টিগোচর

জীবনে অসফল এক ব্যাক্তি আ...

দুস্প্রাপ্য

দুস্প্রাপ্য

অধরাকে ধরার ইচ্ছা, অজ...

আয় কদম নিয়ে যা

আয় কদম নিয়ে যা

রাত্রি ১২ঃ০০..  কদম গাছে...

কয়েকদিন হাসপাতালে

কয়েকদিন হাসপাতালে

একবার আমার কয়েকদিন হাসপা...

হ্যাবলা

হ্যাবলা

গ্রামের নাম পলাশপুর।গ্রা...

বিলাপ

বিলাপ

আচ্ছা আমরা কি ভালোবাসি?শ...

অনুকথন

অনুকথন

অন্নদার ডাক নাম অনু।অনুর...

বন্ধু

বন্ধু

রিজু,আমার বেস্ট ফ্রেন্ড।...

সেদিন

সেদিন

 আজ সকাল থেকেই আকাশটা কে...

ভয়

ভয়

ছোট বেলার থেকেই আমি ছিলা...

অমাবস্যার রাত

অমাবস্যার রাত

গল্পটা খুব আগের না এইতো ...

মিঠু

মিঠু

  আমি মিঠু। পুরো নাম মিঠ...

ভয়ের রাত

ভয়ের রাত

ভয়ের রাত চিন্টুর শরীরটা ...

চিরকুট

চিরকুট

  এই গল্পটা আমার না।এটা ...

লায়লা

লায়লা

"তুমি ছুয়ে দিলে হায়, কিয...

অ্যাক্সিডন্ট

অ্যাক্সিডন্ট

অ্যাক্সিডন্ট আজ আমি ভীষণ...

যখন সন্ধ্যা নামে

যখন সন্ধ্যা নামে

 প্রতিদিন যখন সন্ধ্যা না...