ভয়ের রাত


ভয়ের রাত

ভয়ের রাত

 

চিন্টুর শরীরটা বেশি ভালো না আজ।জ্বর-জ্বর ভাব আছে।তা একমতে ভালোই আজ তাকে পড়তে হবে না।


 

চিন্টু কাল স্কুলেও না যেতে পারে।আসলে সে একটু ফাঁকিবাজ টাইপের। 


 

তার বাবা এখনও অফিস থেকে ফেরেননি। মাও রান্নাঘরে রান্না করছে।আর সে চুপচাপ তার ঘরে বসে টিভি দেখছে।


 

হঠাৎ করে বাইরে ঝড় বইছে।বিদ্যুৎও চমকাচ্ছে। এখন আবার কারেন্ট-টাও চলে গেছে।

চিন্টু তার মাকে ডাকলো - হয়ত তিনি রান্নাঘর থেকে শুনতে পাননি,বাইরে ঝড় বইছে তো- আর রান্নাঘরও চিন্টুর ঘর থেকে বেশ দূরে।


 

চিন্টু একা একা ঘরে বসে আছে - তার এখন খুব ভয় করছে।আসলে চিন্টু একটু ভীতু টাইপেরও।

তার মা বোধহয় মনে করেছে, চিন্টু হয়ত চা    র্জলাইট-টা জ্বালিয়ে নিয়েছে। 

কিন্তু চিন্টু যে এত ভীতু যে-বিছানা থেকে উঠে লাইটটাও জ্বালালো না। 

বাইরের বিদ্যুৎ চমকানোর আলো আবার জানালার ফাঁক দিয়ে ঘরে এসে পড়ছে।মাঝে-মাঝে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে প্রচণ্ড শব্দ হচ্ছে। অন্ধকার ঘরে সে একা একা বসে আছে-লাইটটাও তো জ্বালালো না ও।এবার কিন্তু চিন্টুর আসলেই খুব ভয় করছে।

তার স্কুলের বন্ধুরা বলেছে যে,এমন সময়-ই নাকি ভূত আসে। এইতো সেদিন রিঙ্কি একটা ভূতের গল্প বলেছিল,সেই গল্পেও ভূত এমনসময়-ই এসেছিল।

চিন্টু এবার একটা কাঁথা গায়ে জড়িয়ে চুপচাপ বসে আছে। অল্প-অল্প কাঁপছে, ঘামছেও।আর বার বার রাম...রাম.. জপ করছে।

চিন্টু এইবার একটু সাহস দেখালো।তাড়াতাড়ি কাঁথাটা গা থেকে ফেলে দিয়ে বিছানা থেকে উঠে। ও এখন রান্নাঘরে যাবে।তাড়াতাড়ি যেতে গিয়ে ঠাস্ করে দরজায় একটা ধাক্কা খেলো।'মা' বলে চিৎকার করে উঠলো। তারপর বুঝতে পারলো যে এটা আসলে দরজা।আর দেরি না করে হেঁটে যাচ্ছিল,কিন্তু ওকে কেউ পিছন থেকে টেনে ধরেছে।চিন্টু দৌড় দিতে গেলো অমনি ওর গেঞ্জিটা ছিড়ে গেলো।যে চিন্টুকে টেনে ধরেছিল সেটা ছিল দরজার ছিটকিনি। আবার দৌড় দিতে গিয়ে ডাইনিং টেবিলের সাথে ধাক্কা খেলো। বোকাটা তো লাইট-টাও

নিলো না সাথে, অন্ধকারেই যাচ্ছিল। 


 

ও...কি দরজায় কে দাঁড়িয়ে রয়েছে! মাথার উপরে আবার কি যেন একটা গোলাকার ছাকতির মতো।

ওটা নিশ্চয় ভূত চিন্টুকে ধরতে এসেছে। আসলে ওদের সদর দরজাটা কাচের,শক্ত কাচ জাতীয়। তাই যদি ওখানে কেউ এসে দাঁড়ায় কালো ছায়া পড়ে দরজাটায়।বিদ্যুৎ চমকানোর আলোয় ছায়াটা দেখা যাচ্ছে আবার অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে। তাই চিন্টু ভয় পেয়ে গেছে।


 

কেউ যেন ওর দিকে মোমবাতি নিয়ে এগোচ্ছে। এবার চিন্টু প্রাণপণে একটা চিৎকার করলো,'মা...মা..ও মা…'

'কি হয়েছে চিন্টু--তুমি এখানে অন্ধকারে কি করছো?'মোমবাতি হাতে তার মা বললো।

চিন্টুর মা যাচ্ছিল চিন্টুর ঘরে চিন্টু কি করছে দেখতে। চিন্টু একটু সাহস পেল।


 

চিন্টু তার মাকে বললো,'মা দরজায় যেন কে দাঁড়িয়ে রয়েছে! '

'দাঁড়াও আমি দেখছি'ওর মা বললো।


 

ওর মা গিয়ে দরজাটা খুললো। ছাতা হাতে ওটা হলো চিন্টুর বাবা।তিনি অফিস থেকে অনেক আগেই ফিরেছেন, দরজায় ডাকছিলেন কিন্তু বিদ্যুৎ চমকানোর আওয়াজে কেউ শুনলো না।


 

চিন্টুর বুকে এবার একটু সাহস পেল। 

কিছুক্ষণ পরে ঝড় থেমে গেলে-কারেন্টাও চলে এলো।চিন্টুর ভয়ও কেটে গেছে।


 

কিন্তু সেই রাত ছিল চিন্টুর ভয়ের রাত।



 


Anik
সিকন
Anonna dhar
Nipendra Biswas
Akash
Sandeep Roy
তারা এই গল্পটি পছন্দ করেছেন ।

প্রথম মন্তব্য লিখুন


মন্তব্য লেখার জন্য আপনাকে অবশ্যই লগ ইন করতে হবে


আপনার জন্য

নিদ্রাহীন

নিদ্রাহীন

রাতে যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়ে...

সে.....

সে.....

এক নিমষেই কি সব শেষ হয়? ...

নীল দ্বীপ (পর্ব৩)

নীল দ্বীপ (পর্ব৩)

নীল দ্বীপ পর্ব ৩ মৃন্ময় ...

শেষ

শেষ

      ফোন রিং হওয়ার শব্দ...

আমি (পর্ব৪)

আমি (পর্ব৪)

সকালের মিষ্টি রোদ আমার চ...

আমি (পর্ব৫)

আমি (পর্ব৫)

বিচিত্র পৃথিবীর মাঝে বেঁ...

বটমূল

বটমূল

ছুটির ঘন্টা পড়ে গেল.......

Birthday যখন Foolday!!🎶

Birthday যখন Foolday!!🎶

 Birthday  যখন Foolday🎶...

অদ্ভুত-উদ্ভট

অদ্ভুত-উদ্ভট

এ কোথায় এলাম আমি?হঠাৎ দে...

শিকার

শিকার

রাত ১ঃ৩০টা।অমাবস্যার রাত...

খাঁটি পাগল

খাঁটি পাগল

বিধূবাবুর কাছে এক পাগল এ...

আমি (পর্ব৩)

আমি (পর্ব৩)

"এমনি দিসিলাম।কি করছিলি ...

নীল দ্বীপ (পর্ব ৫)

নীল দ্বীপ (পর্ব ৫)

মৃন্ময় খেয়াল করে দেখল শু...

রোহান বিল্লা

রোহান বিল্লা

     রোহান বিল্লা   লেখি...

তুমি অনন্যা (পর্ব ৩)

তুমি অনন্যা (পর্ব ৩)

পর্ব ৩:একটু এগুনোর পর শা...

নাম হীন গল্প - শেষের অংশ

নাম হীন গল্প - শেষের অংশ

প্রথম অংশের পর…     তখন ...

তুমি অনন্যা  (পর্ব ৬)

তুমি অনন্যা (পর্ব ৬)

রনির মন চাচ্ছে আবার দেখা...

নীল দ্বীপ

নীল দ্বীপ

           লেখক :ইসরাত ই...

তুমি অনন্যা (পর্ব ০২)

তুমি অনন্যা (পর্ব ০২)

            তুমি অনন্যা ...

"রহস্যময়ী সেই ফোন কল"

"রহস্যময়ী সেই ফোন কল"

রাত ১০ টা বেজে ৩০ মিনিট ...