
রাত্রি ১২ঃ০০.. কদম গাছের নিচে বসে আছি। একটু আগে এখানে স্নান করছিলাম...মৃদু বাতাসে সুন্দর গন্ধ আসছিলো। উপরে তাকিয়ে দেখি কদম.. গাছ ভর্তি কদম। আর গাছের পাশ দিয়ে আকাশ ভড়া তারা দেখা যাচ্ছিলো। বেশ সুন্দর একটা পরিবেশ হয়েছিলো।
এখনো প্রায় তেমনি আছে.. চারিদিকে কোন কোলাহল নেই। মৃদু বাতাস বইছে আর তার সাথে কদমের সুগন্ধ। মনে হচ্ছে সারারাত এখানেই বসে থাকি। পাশে একটা পুকুর আছে। পুকুরে জল অবশ্য বেশী নেই তবে কদিন পরে নতুন জল আসবে পুকুরে। পুকুরটা আমাদের না। আমি ঠিকভাবে জানিও না কার এটা।
এখন ছোটবেলার ঘটনা মনে পরছে। আমার ঠাকুমা আমাকে বলতো.. আমি ছোটথাকতে বলতাম- রাতে জানালা দিয়ে গণেশ ঠাকুর ডাকে। বলে " আয়.. আয়.. কদম নিয়ে যা"। ঠাকুমা এই কথা শুনে বলতো " তুমি কিন্তু কদম নিতে যাবেনা।। বলবে - আমি যাবোনা তুমি দিয়ে যাও। " আমি অবশ্য কখনো কদম আনতে যাইনি তার কাছে। অইখানে একটা কদম গাছ ছিলো। অইটা এখন আর নেই। কেটে ফেলা হয়েছে। কেন কাটা হয়েছে তা জানিনা। কাটার পরেও সেখান থেকে ছোট ছোট ডাল গজিয়েছিলো।
আমার ছোট ভাই অইগুলো পছন্দ করতো। তখন তার বয়স ১-২৷ আমাকে বলতো - "কদম পাতা এনে দে না দাদা"। আমি বলতাম - "পাতা এনে দিবো.. আমাকে আদর করতে হবে আগে"। তখন সে আমাকে জড়িয়ে ধরতো। পরে আমি তাকে কদম পাতা এনে দিতাম আর সে তখন আমাকে ভুলে কদম পাতা নিয়ে নিজের মনে খেলতো। যেনো কদম পাতাই সব।
কদম নিয়ে আরো কিছু কথা মনে পরছে.. তবে আজ আর লিখবোনা। ছবিটা একটু আগে তুলা। এর নিচেই বসে আছি। হাত বাড়ালেই কদমের নাগাল পাওয়া যায় তবুও ধরবোনা।।
প্রথম মন্তব্য লিখুন
মন্তব্য লেখার জন্য আপনাকে অবশ্যই লগ ইন করতে হবে