ডাবল জিরো


ডাবল জিরো

অংক পরীক্ষায় একেবারে দুটো শূন্য, যাকে বলে "ডাবল জিরো " পেয়েছে অনি।সারাবছর ভালো করে পড়েনি,আর শেষে গিয়ে পরীক্ষায় এই ফলাফল! বাবা-মা জিজ্ঞেস করলে বলতো,"ও চিন্তা করো না,পরীক্ষার আগেরদিন পড়েও পাস করে যেতে পারবো!ডোন্ট ওয়ারি!জাস্ট চিল…!"

প্রতিবারই এমনই করতো আর পাসও করে যেতো,কিন্তু এবার আর সেই সৌভাগ্য হলো না!

অংক ভয় পায়,আর সে অংকই ভালো করে পড়েনি! অংক নাকি ওর কাছে কঠিন মনে হয়,তাই সে অংক কোনেদিন ভালো করে পড়েইনি! ওর বাবা হাজারবার বলেও বুঝাতে পারেননি যে,"তুই যদি অংক প্রেকটিসই না করিস,ভালাে করে না পড়িস আর খুব কঠিন বলে চালিয়ে দিস না পড়ে,তাহলে তো অংক কোনোদিন তোমার কাছে সহজ হবে না চাঁদু!"


পরীক্ষার খাতাটি বাবার হাতে দিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে সে।অনি জানে, বাবা আবার খুব রসিক মানুষ। বকবেন না, এটা নিশ্চিত। কিন্তু কোনো না কোনো ভাবে লজ্জ্বা দিবেন ঠিকই, এটাও নিশ্চিত! তাও মায়ের চেয়ে ভালো,মা হলে তো একেবারে…বাবা খাতা দেখলে মাকে আর খাতা দেখাতে হবে না। 

বাবা খাতাটি উল্টে-পাল্টে দেখলেন।বললেন, " পরীক্ষায় যে একবারে দুটো ডিম পেলি রে? "

অনিও একটু সুযোগ পেয়ে রসিকতা করে ফেললো, " বাজারে ডিমের যা দাম, বাবা!তারমধ্যে দুটো ডিম ফ্রীতে পেয়ে গেলাম ভালো হলো না? "

বাবা অনির দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রয়েছেন,হয়তো তিনি ভাবতেই পারছেন না—পরীক্ষায় ডাবল জিরো পেয়ে কে এমন রসিকতা করতে পারে তাও বাবার সামনে!

তিনিও পাল্টা রসিকতার মধ্য দিয়ে উত্তর দিলেন," দুটোতে কি হবে রে? চারটে পেলে ভালো হতো!তুই যা ছাত্র,তোকে চারটের বদলে দুটো ডিম কেন দিলো?—সেটাই বুঝতে পারছি না!স্যার যেহেতু বুঝতেই পেরেছেন, তোর মাথায় ঘিলু কম,তাহলে দুটো ডিম কেন দিলেন?দুটো খেয়ে কি আর ঘিলু হবে? "

অনি জিহ্ব কাটলো।বুঝলো যে,বাবার সাথে রসিকতা করা ঠিক হয়নি।ওর বাবা রসিকতারও বাবা!কেন যে রসিকতা করতে গেলো?যার ফলে, বাবা ওর প্রেস্টিজ একেবারে চাপ দিয়ে ছোট করে দিলেন!ভুল জায়গায় রসিকতা হয়ে গেছে! 

অনি পরিস্থিতি সামলানোর জন্য বাবাকে বললো, " বাবা অংক জিনিসটা আসলে তেমন কঠিনও না,সহজও না।যারা বুঝে তাদের জন্য সহজ।যারা বুঝে না তাদের জন্য কঠিন! আমার কাছেও অংক খুব সহজ কিন্তু একটুর জন্যে কঠিন মনে হয়,কারণ,আমি অংক আসলে বুঝি না!... "

বাবা মাঝ থেকে বলে ফেললেন, " তুই যদি অংককে ভয় পেয়ে —অংকই না করিস,তাহলে কি করে বুঝবি! "

অনি তাড়াতাড়ি প্রসঙ্গ এড়ানোর জন্যে বললো," বাবা,এসব বাদ দাও তো।যা হওয়ার তা হয়ে গেছে! তা নিয়ে ভেবে লাভ নেই! জানো না,কোনো এক মহাপুরুষ বলে গেছেন,অতীত নিয়ে চিন্তা করতে নেই…ভবিষ্যত নিয়ে ভাবতে হবে!এখন ভবিষ্যতে আমি একজন কবি হবো,সেই গুণ আমার মধ্যে এখন থেকেই বিকশিত হচ্ছে।অংক পরীক্ষায় ফেল করেছি তো কি হয়েছে?  অংক নিয়ে কি সুন্দর কবিতা লিখে ফেললাম…শুনলে বুঝবে!শুনবে বাবা? "

বাবা ঠাট্টার সুরেই জিজ্ঞেস করলেন,"তা কোন মহাপুরুষ বলেছেন?"

অনি থতমত খেয়ে বললো,"আরে বাবা,সেসব বাদ দাও না।আমার মতো একজন ভবিষ্যত মহান কবি তোমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে, সেটা দেখো?

একদিন বলা হবে,মহান কবি অনিকেতের বাবা ছিলেন অবিরাম শীল…তোমার কত সম্মান বাড়বে,তা ভেবে দেখো?এই মহান কবি অনিকেতের বাবা তুমি!তোমার তো বাবা গর্ব করা উচিত! আর বাবা,তুমি আমাকে পাত্তাই দিচ্ছো না!এই অবিচার মানা যায়?"একটু অভিনয় করতে হলো অনির এইগুলো বলতে বলতে!ওকে কবি আবার অভিনেতাও বলা যায়—এইগুণের গুণেই তো প্রতিবার ও বাবাকে ফাঁকি দেয়!যদিও তা ঠিক না,তবে সাময়িক বিপদ থেকে বাঁচতে তা অবলম্বন করতে হয়!সাময়িক বিপদ থেকে অর্থাৎ বাবার রাগ থেকে!বাবার মন আবার এমনিতে কোমলই!একটু চালাকি করে সহজেই গলানো যায়!তবে কবিতার বিষয়ে অনি আবার ফাঁকি মারে না,টুকিটাকি লিখে।তার থেকে একটা শুনিয়ে দিবে!বাবার আবার কবিতার প্রতি একটু টান আছে!এটা দিয়েই প্রতিবার বাবার মন গলায় ও!অর্থাৎ অনি একজন ফাঁকিবাজ!

বাবা একটু থেমে অবাকদৃষ্টিতে ওর দিকে চেয়ে বললেন," তুই আর কবি! শুনি কি কবিতা লিখেছিস?যা কথা বলিস!এখন কি কবিতা লিখলি তা শুনি? "

অনি বেশ খুশিই হলো—এই অবস্থা সামাল দেয়ার সুযোগ পেয়ে!ও আবৃত্তি করতে লাগলো —


 

অংক কষতে বসে,

চুল ছিঁড়ে ফেলি ঘষে!

অংক যে ঢুকে না আমার ঘটে—

অংক খুব কঠিন জিনিস বটে!

বুঝে না যে,

বলে সে,অংক বানিয়েছিল কে?

আর যে বুঝে,

অংকের রহস্য সে খুঁজে! 

কেউ বলে,সব পারি,শুধু অংকতেই দোষ!

আবার কেউ বলে,অংক জিনিসটা জোস!


 

বাবা শুনে বললেন, " বুঝলাম,অংকের প্রতি তোর ডিপ্রেশন থেকেই এই কবিতা লিখেছিস!নিজেকে সান্ত্বনা দিতে।তবে সুন্দর হয়েছে। আর কিছু হোস না হোস কিন্তু নিজের কিছু ডিপ্রেশন থেকে নিজেকে সান্ত্বনা দিতে এরকম কবিতা লিখে হয়তো কবি হতে পারবি।চালিয়ে যা…"

বাবা একটু পর, ইমোশনাল হয়ে বললেন,"আর বিশেষ করে আমারও অংক নিয়ে একটা ডিপ্রেশন ছিল!তোকে আর কি বলি?—আমারও ভালোই লাগলো রে! "

অনি তা জানে,বাবার ভালো লাগবেই।অনি আগে থেকে এসব ভেবেই কবিতা লিখে রাখে!

অনি ভাবলো," যাক,পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেছে! এখন মাকেও সামলাতে পারলেই বাঁচি! "

একটু মুচকি হাসলো সে!

 


রিদা
Nipendra Biswas
তারা এই গল্পটি পছন্দ করেছেন ।

প্রথম মন্তব্য লিখুন


মন্তব্য লেখার জন্য আপনাকে অবশ্যই লগ ইন করতে হবে


আপনার জন্য

আমি

আমি

              আমি       ...

অদ্ভুত-উদ্ভট

অদ্ভুত-উদ্ভট

এ কোথায় এলাম আমি?হঠাৎ দে...

দার্শনিক ফল্টুদা

দার্শনিক ফল্টুদা

দার্শনিক ফল্টুদা —ফল্টুদ...

খাঁটি পাগল

খাঁটি পাগল

বিধূবাবুর কাছে এক পাগল এ...

জিহাদ বাবু

জিহাদ বাবু

 হাসি হাসি আর হাসি রিফাহ...

উধাও  || পর্ব -১

উধাও || পর্ব -১

৬৬ সালের মে মাস…. প্রমাণ...

"রহস্যময়ী সেই ফোন কল"

"রহস্যময়ী সেই ফোন কল"

রাত ১০ টা বেজে ৩০ মিনিট ...

অনুকথন

অনুকথন

অন্নদার ডাক নাম অনু।অনুর...

সুবিমলবাবুর স্মরণীয় বাস জার্নি

সুবিমলবাবুর স্মরণীয় বাস জার্নি

১.সুবিমলবাবু অনেকদিন পর ...

পাহাড়ের চূড়া

পাহাড়ের চূড়া

             পাহাড়ের চূড়...

আমি (পর্ব৫)

আমি (পর্ব৫)

বিচিত্র পৃথিবীর মাঝে বেঁ...

হ্যাবলা

হ্যাবলা

গ্রামের নাম পলাশপুর।গ্রা...

তুমি অনন্যা (পর্ব ০২)

তুমি অনন্যা (পর্ব ০২)

            তুমি অনন্যা ...

ভয়

ভয়

ছোট বেলার থেকেই আমি ছিলা...

ধাপ্পাবাজ বাপ্পা অথবা ধাপ্পাদা

ধাপ্পাবাজ বাপ্পা অথবা ধাপ্পাদা

—বাপ্পাদার নাম যেভাবে ধা...

নীল দ্বীপ (শেষ পর্ব)

নীল দ্বীপ (শেষ পর্ব)

মৃন্ময়ের বিয়ের সবকিছু ঠি...

আশ্চর্য এক সুগন্ধ

আশ্চর্য এক সুগন্ধ

লেখিকাঃ রোদেলা রিদাএকবার...

ভয়ের রাত

ভয়ের রাত

ভয়ের রাত চিন্টুর শরীরটা ...

জুতা চোর

জুতা চোর

এই বিশুটা জুতা চুরি করে ...

বটমূল

বটমূল

ছুটির ঘন্টা পড়ে গেল.......